আপনার 24000 BTU ইনভার্টার স্প্লিট এসি বাংলাদেশে কীভাবে কাজ করে জানুন!

Posted by Rudra S.
7
Jan 8, 2021
253 Views

বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে তীব্র আবহাওয়া পরিস্থিতিতে সারা বছর ধরেই এয়ার কন্ডিশনার দরকার হয় আপনি যদি এই উৎসবের মরশুমে নিজের বাড়ির জন্য আধুনিক স্প্লিট এয়ার কন্ডিশনার কেনার খোঁজ করেন তাহলে আপনার এটি পড়া দরকার

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, আপনার সবথেকে বেশি ব্যবহার করা মেশিনটি কীভাবে কাজ করে তা জেনে নিন  

স্প্লিট এসিতে:

        রেফ্রিজারেন্ট প্রথমে কম্প্রেসরে প্রেসার দিয়ে ঢোকানো হয় এর ফলে তাপ বাড়তে থাকে

        তারপরে প্রেসার দেওয়া গ্যাস একের পর এক নলের মধ্যে দিয়ে যেতে থাকে, ফলে গ্যাসটি ঘনীভূত হয়ে তরলে পরিণত হয়

        চাপের মধ্যে থাকা তরলটি একটি প্রসারিত অংশের মধ্যে দিয়ে বাহিত হয় যেখানে চাপ যথেচ্ছভাবে কমিয়ে নেওয়ার জন্য তরলটি আবার গ্যাসে পরিণত হয়

        চাপ কমে যাওয়ার ফলে গ্যাস প্রচুর তাপ ছাড়ে এবং অনেকটাই ঠান্ডা (তাই এটিকে রেফ্রিজারেন্ট বলা হচ্ছে) হয়ে যায়

        এই প্রক্রিয়াটি বারংবার চলতে থাকে ঘরের বাতাস ইউনিটে টেনে আনা হয় এবং উদ্বায়ী কয়েলের মধ্যে দিয়ে বাহিত করা হয়

        নির্ধারিত তাপমাত্রায় (থার্মোস্ট্যাটের মাধ্যমে সেট করা) না পৌঁছনো পর্যন্ত বাতাস এয়ার কন্ডিশনারের মধ্যে ঘুরতেই থাকে

        এই পয়েন্টে এসে যন্ত্রটি অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায়

 

কুলিং ডিভাইস হিসেবে কাজ করা ছাড়াও, আধুনিক এসিগুলি আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, বাতাসের শুদ্ধিকরণ, এবং এয়ার পিউরিফাইং ফিচারের মতো বহু উদ্ভাবনী ফিচারের সম্ভারে সমৃদ্ধ যা ভোক্তাদের এয়ার কন্ডিশনিংয়ের সেরা অভিজ্ঞতা লাভ করতে দেয়। নিজের বাড়ির জন্য সেরা স্প্লিট এসি বাছার সময় আপনি যে যে বিষয় দেখতে পারেন তার কয়েকটি এখানে দেওয়া হল!

1.    সামর্থ্য:যে ঘরের জন্য এসি কিনছেন সেটির মেঝের মাপের উপর নির্ভর করে এয়ার কন্ডিশনারের সামর্থ্য বিবেচনা করা দরকার।  একটি 18000 BTU স্প্লিট এসি বা  24000 BTU স্প্লিট এসির মধ্যে তুলনা করা হলে শুধু যে দামের পার্থক্য হবে তাই নয়, বরং ঠান্ডা করার সামর্থ্যেও বিস্তর পার্থক্য দেখা যাবে।  নিজের কার্ড সোয়াইপ করার আগে দেখে নিন কত টনের এয়ার কন্ডিশনার আপনার ঘরের মাপের জন্য আদর্শ হবে!

2.    বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার:আজকাল পারদ এবং বিদ্যুতের মূল্য যেভাবে চড়ছে তাতে এয়ার কন্ডিশনার বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী হওয়া আবশ্যক। এয়ার কন্ডিশনার স্টার দেওয়া বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ের রেটিং সহ পাওয়া যায়, যেটিকে EER-ও বলে, এটি কেনিয়া ব্যুরো অফ স্ট্যান্ডার্ডসের পক্ষ থেকে প্রামাণ্য পেয়েছে। সেজন্যই, বেশি স্টার থাকা ইউনিট হলে সেটি কম স্টার রেটিংবিশিষ্ট ইউনিটের থেকে কম বিদ্যুৎ খরচ করবে।

3.    স্প্লিট না উইন্ডো এসি: আরেকটি নির্ণায়ক বিষয় হল আপনি উইন্ডো না স্প্লিট এসি মডেল কিনতে চান। উইন্ডো এসি তুলনামূলক সস্তা ও সহজে ইনস্টল করা গেলেও, স্প্লিট এসি নীরবে কাজ করে, দেখতেও সুন্দর লাগে এবং বাতাসের প্রবাহও সমান ও সুন্দরভাবে ছড়িয়ে পড়ে। 

4.    প্রোডাক্টের দাম এবং বাতাসের গুণমান: যেহেতু বেশি ফিচার এবং বেশি স্টার রেটিং থাকলে দামও স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়, তাই এসি কেনার সময় দামও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়াও, ঘরে এসি ইনস্টল করার সময় ভিতরের বাতাসের গুণমান কেমন সেটি বিবেচনা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাল ফিল্টার থাকলে যে শুধু বাতাস পরিষ্কার হবে শুধু তাই নয়, বরং ধূলো জমে উদ্বায়ী কয়েল আটকে এসির বেশি বিদ্যুৎ খরচ রোধ করতেও সক্ষম হবে।

5.    ইনস্টলেশনের আবশ্যিকতা: উইন্ডো এসি একটি ছোটমাপের ইউনিট যা জানলায় বসানোর মতো করেই তৈরি করা হয়। স্প্লিট এসিতে ঘরের বাইরে একটি কম্প্রেসর ইউনিট এবং ভিতরে একটি ইউনিটও থাকে, যা বাতাসের প্রবাহ আরও ভাল করার জন্যই বিশেষভাবে তৈরি। 

6.    ঠান্ডা করার গতি: সচরাচর, এসির একটি পরিবর্তন করার মতো থার্মোস্ট্যাট (তাপমাত্রার সেটিং) এবং ঠান্ডা করার জন্য অন্তত দুটি ভিন্ন গতি থাকা দরকার, তার মধ্যে দিনের বিভিন্ন সময়ে আলাদা গতিতে চালানোর মত অন্তত দুটি ভিন্ন গতিতে ফ্যানটি চালানোর বিকল্প থাকতে হবে। এর সাথে বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী সেটিং থাকলে তো ভালই হয়, কারণ এটি সবথেকে অনুকূলভাবে ঠান্ডা করার সাথে বিদ্যুৎ বাঁচাতেও সাহায্য করবে।

এগুলির সাথে, আপনি যদি অন্য কোনও বিষয় বিবেচনা করতে চান তাহলে সেগুলিও এসিতে আছে কিনা দেখে নিন, তার মধ্যে ডিহিউমিডিফিকেশন ফাংশন থেকে স্লিপ মোড ফাংশন এবং এয়ার পিউরিফাইং মোডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Comments
avatar
Please sign in to add comment.